পানি এবং সাম্রাজ্যবাদ

water01

(llbangla.org)

মানুষের বেচে থাকার জন্যতাঁর জীবন যাপনের নানা কাজে পানি একটি অতিব গুরুত্বপূর্ণ উপাদানপানি ছাড়া মানুষের জীবন অকল্পনীয়মানব সমাজের জন্য পানি একটি উন্নয়নের চালিকা শক্তি হিসাবে কাজ করে থাকেপানি একটি মূল্যবান সম্পদআজকের দুনিয়ায় পানির জন্যনানা দেশসমাজ মারাত্ম সমস্যার সম্মোখিনবিশেষ করে দরিদ্র বা তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমূহপানি প্রাপ্তি এখন তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছেএই পানির সঙ্কঠের কারনে মানুষকে নানা ভাবে মূল্য দিতে হচ্ছেব্যবহার উপযোগী পানি প্রাপ্তির বিষয়টি প্রতি নিয়ত জটিল আকার ধারন করছেআগামীতে তা আরো তিব্র আকার ধারন করতে পারেদরিদ্র মানুষ বিভীষিকাময় পরিস্থিতির শিকার হবে রাশিয়ার বলশেভিক নেতা মহা মতি লেনিন বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদদারিদ্রতা সম্পর্কে আলোকপাত করে গেছেনলেনিন ভবিষ্যবানী করে বলেছিলেন সাম্রাজ্যবাদ সর্বদাই একটার পর একটা যুদ্ব লাগয়েই রাখবেতাদের আসল মতলবটা হলো তৃতীয় বিশ্বের মানুষের সম্পদের উপর প্রভুত্ব কায়েম করাতা বজায় রাখাএকুশ শতকে সাম্রাজ্যবাদী চক্রের নজর পড়েছে পানি সম্পদের প্রতিএই নিয়ে তারা নানা জায়গায় দ্বন্দ্ব সংঘাত বাধিয়ে রাখছেসুপেয় পানি নিয়ে উরা নানা স্থানে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইছে

পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদ নানা জায়গায় সংকট তৈরীর ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকেসাধারণ মানুষকে পানীয় জলের অভাবে ফেলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরীতে কাজ করছেলিখক এক্টিভিস্ট অরুনদূতি রায় বলেছেন

াম্রাজ্যবাদিরা সর্বদা মিসাইল বা ট্যাংক নিয়ে আসে না যেমন এসেছে ইরাকে, আফগানিস্তানে, বা ভিয়েতনামেতারা এমন ভাবে এসে নাজিল হয় যে তারা মানুষে চাকুরী খায়, বিদ্যুতের বিল বাড়িয়ে দেয়, গ্যাসপানির লাই কেটে ফেলে, বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করে, জমি কেড়ে নেয় ইত্যাদিতাদের প্রক্রিয়াটিই হলো দরিদ্রকে দরিদ্র রাখ আর তাদেরকে শোষণ করসাম্রাজ্যবাদ কিছাড়া আর কিছু করেছে কোথাওতারা তো কেবল বৈষম্যই তৈরী করে

পানির সংকট ধীরে ধীরে ব্যাপক আকার ধারন করছেজাতি সংঘের মহা সচিব কফি আনান তাঁর সময়ে একবার বলেছিলেন যে, বর্তমান বিশ্ব প্রতিজনের মধ্যেজন সুপেয় জল থেকে বঞ্চিত আছেআর এই সংখ্যার দ্বিগুন মানুষ ২.৪ বিলিয়ন যারা এখননিরাপদ পয়প্রনালী থেকে কেবারেই বঞ্চিত আছেনপ্রতি বছর প্রায়মিলিয়ন মানুষ মারা যায় কেবল পানিবাহিত রোগের কারনেবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর ১.৮ মিলিয়ন শিশু মারা যায় নিরাপদ পানিস্যানিটেশনের অভাবে

১.২ বিলিয়ন মানুষ এখনও কোন প্রকার স্যানিটেশনের সুযোগ পাচ্ছেন না২.৫ বিলিয়ন মান সম্পন্ন স্যানিটেশন পাচ্ছেন নানোংরা জীবন যাপনের কারনেই পৃথিবীর বেশীর ভাগ মানুষ নানা প্রকার রোগে আক্রান্ত হনতাদের অসুখ বিশুখের একটি প্রধান কারনই হলো অনিরাপদ স্যানিটেশনসুপেয় পানীয় জলের অভাবযার ফলে তারা নানা প্রকার রোগে আক্রান্ত হয়ে কর্ম ক্ষমতা হারান

অধিকন্ত, পানি ছাড়া কৃষি কাজের কথা ভাবাই যায় নাপ্রথমতঃ পানির সংকটের কারনেই বিশ্বের খাদ্য সংকটদেখা দেয়দুর্বল কৃষি ব্যবস্থা পানির অপচয় ঘটায়যদি এই দুর্বল কৃষি ্যবস্থা বজায় থাকে তবে, প্রতিনিয়ত বৃদ্বি পাওয়া জন সংখ্যার চাহিদা মেটাতে পারবে না কৃষি তথ্য বলছে, সেচ ব্যবস্থার উপর নির্ভর শীল কৃষির পরিমান হলো ৪৫% । তা হলে সেচ ব্যবস্থা ছাড়া আমাদের বর্তমান বিশ্বেরবিলিয়ন মানুষের খাদ্যের চাহিদা কোন ভাবেই মেটানো যাবে না

লাস্টার ব্রাউন, যিনি বিশ্ব পরিবেশ সংস্থার গবেষক, তাঁর মতে, পানির নিপত্তা নিশ্চিত না করে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি ভাবাই যায় নাএখন বেশীর ভাগ সেচ প্রকল্প হুমকির মূখেফলে বেশী মাত্রায় ভুগর্বস্থ পানি ব্যবহার করা হচ্ছেযা এক সময় জটিল সমস্যার সৃষ্টি করতে পারবেবেশী মাত্রায় অপচয়, পানি প্রবাহের অতি ব্যবহার আমাদের পরিবেশপ্রতিবেশকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ করতে পারেপানি সম্পদের বিনাশ ডেকে আনতে পারেআর সেই কারনেই বলা হচ্ছে যে, পানির সমস্যা খাদ্য সঙ্কটকে তিব্রতর করতে পারেজন সংখ্যার বৃদ্বি পানীয় জলকৃষি ব্যবস্থায় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারেবর্তমানে বিশ্বের এক তৃতিয়াংশ মানুষ পানি সমস্যার ঝুকিতে আছেনআর এর

সঙ্কটের বৃদ্বি দিনে দিনে বাড়ছেইএশিয়াঅন্যান্য দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে পানির ভূমিকা অপরিসীম এবং পানি নিরাপত্তা এখন একটি গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়২০৫০ সালের মধ্যে দুনিয়ার মানুষের সংখ্যাবিলিয়ন থেকেবিলিয়নে উন্নিত হতে পারে বলে অনেকেই মনে করেনসেই সকল মানুষের খাদ্যের যোগান দিতে আরো পানি দরকার পড়বেআরো মানুষ মানেই হলো আরো পানি দরকার

পানির সঙ্কটের জন্য তৃতীয় বিশ্বের মানুষই বেশী কষ্টে পড়বেস্থান বিশেষে পানির অভাবের মাত্রাভিন্ন ভিন্ন হয়প্রথম বিশ্বের তুলনায় তৃতীয় বিশ্বের মানুষ বেশী মাত্রায় কষ্ট করবেপ্রথম বিশ্বের বেশ আয় রোজগারের কারনেই বেশী সুযোগ পাবেতাদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা সহ সকল সুবিধাই বেশী পাবেতাদের জীবন উন্নত জীবন

বিশ্বের মধ্যম আয়ের মানুষের বার্ষিক আয় হলো ৯১২.৫০ ডলার ( প্রতিদিন ২.৫০ ডলার)। ২.৫ বিলিয়ন মানুষের বার্ষিক আয় হলো মাত্র ৭৩০ ডলার ( প্রতিদিনডলার মাত্র)পক্ষান্তরে, ২০০৬ সালের হিসাবে অ্যামেরিকার মধ্যম মানের মানুষের বার্ষিক আয় হলো ৪৬,৩২৬ ডলার প্রতিটি মানুষের বেচে থাকের জন্য একদিনে দরকার পরেগেলন পানিরএকজন মার্কিনি প্রতিদিন ১০০ গ্যালন থেকে ১৭৬ গ্যালন পানি ব্যবহার করে থাকেগড়ে আফ্রিকার একটি পরিবার প্রতিদিন মাত্র ৫ গ্যালন পানি ব্যবহার করে থাকে। সেখানে ২.৯ বিলিয়ন মানুষের স্যানিটেসনের কোন ব্যবস্থাই নেই।

প্রথম বিশ্বের মানুষের সম্পদ ও ক্ষমতার মাত্রাই আমাদেরকে বলে দেয় যে, তারা তৃতীয় বিশ্বের উপর কি মাত্রায় নিয়ন্ত্রন বজায় রাখতে সক্ষম। সাম্রাজ্যবাদ পানিকে অন্যান্য পন্যের মতই ব্যবহার করে থাকে। পানিকে ও ব্রান্ডিং করে নানা ভাবে বানিজ্য করে যাচ্ছে। তারা তা নিয়ে নানা ভাবে রাজনীতি ও করছেন। বিশ্বায়নের ক্ষেত্রে তারা পানিকে উপাদান হিসাবে বিবেচনা করছেন।

তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমূহে সাম্রাজ্যবাদ পানি নিয়ে নানা প্রকার প্রকল্প চালু করেছে। উদাহরন হিসাবে ফিলিস্তিন ও ইজরাইলের মধ্যে আকিফার পর্বতের নিচ দিয়ে প্রবাহিত পশ্চিম তীর নিয়ে তাদের কর্ম কান্ডের কথা উল্লেখ করা যায়। ইসরাইলের অভিবাসিদের দ্বারা ভুগর্বস্থ পানির উপর নিয়ন্ত্রন করছে ইসরাইলীদের তুলনায় ফিলিস্তিনের উপর প্রায় তিন গুন বেশী মূল্য দিতে হয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ফিলিস্তিনিদেরকে পানি সরব্রাহ করার দায়িত্ব ইসরাইলীদের উপর। ইসরাইলিদের এই দায়িত্ব উপেক্ষা করার কোন সুযোগ নেই। এখন সেই পানির মূল্য দিনে দিনে বাড়ছেই। এমন কি তাদেরকে আজ যুদ্বে জড়িয়ে ও তাঁর মূল্য আদায় করে নিচ্ছে। পানির উত্তলন, বিতরন ও নিয়ন্ত্রনের সকল কাজই করছে ইসরাইল ও তাদের মার্কিন বন্দ্বুরা। পানির উপর নিয়ন্ত্রন মানেই হলো কৃষির উপর নিয়ন্ত্রন বজায় রাখা। খাদ্যের উপর নিয়ন্ত্রন, স্যানিটেশনের উপর নিয়ন্ত্রন এবং সামগ্রীক বিবন ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রন বজায় রাখা।

জিম্বাবোয়েতে ভুমি সংস্কারের ক্ষেত্রে ও পানি আজ একটি সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাড়িয়েছে যে জিম্বাবুয়েতে এখন পানির কারনে ভুমি সংস্কার পন্থীরা ও নানা ভাবনায় পড়ে গেছেন। সেখান কার বেশীর ভাগ ভূমি এখন ও ইউরূপীয়ানরাই বেশী নিয়ন্ত্রন করে থাকে। মুগাবে চাইছেন সত্যিকার চাষি আফ্রিকানদের মাঝে ভুমি বিতরন করতে। সমস্যা হলো সেচের জন্য যে কাঠামো বা ডেম ব্যবহার করা দরকার তাঁর নিয়ন্ত্রন দরিদ্রদের হাতে নেই। তাদের অধিকাংশই নিয়ন্ত্রিত হয় ইউরূপীয়ানদের মাধ্যমে।

পানির সঙ্কটকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাবেক ভূমি মালিকরা সাম্রাজ্যবাদী চক্রের সহায়তায় জিম্বাবোয়ের ভুমি সংস্কারকে নস্যাৎ করে দিতে চায়। আর এর জন্য তারা পানির সঙ্কট তৈরী করতে চাইছে। মুগাবেকে বিভ্রতকর পরিস্থিতে ফেলে তারা ক্ষমতায় অরোহন করতে চাইছে। মুগাবে বিরোধী দল গুলো ক্ষমতা শালী পশ্চিমা দুনিয়ার কাছে থেকে নানাহ ভাবে সহযোগীতা পাচ্ছে। উরা এখনো এখানে উপনিবেসিক সুবিধা হাসিল করতে চায়।

আরো একটি উদাহরন হলো বলিবিয়ার সঙ্কটের একটি সুন্দর সুরাহা হয়েছে। বলিবিয়ার সমস্যার সমাধানের জন্য সাম্রাজ্যবাদিদের একটি ভুমিকা ছিলো। ল্যাতিন অ্যামেরিকায় একটি দরিদ্র দেশ হলো বলিবিয়া। ৭০% মানুষ এখন দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে । মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই প্রায় ১০% শিশু

মারা যায় । ১৯৮০ সালে বলিবিয়ার অর্থনীতিতে একটি ব্যাপক মুদ্রাস্পীতি দেখা দিয়েছিলো। ইহা সেখান কার অর্থনিতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। এক্ট ক্ষুদ্র অভিজাত শ্রেণী এখন বলিবিয়ায় শাসন করছেন। সেখানকার প্রায় ৬০% মানুষ আদিবাসি। যারা ইউরূপীয়ান বংশদ্ভত তাদের সুযোগ সুবিধাই আলাদা । তারা দরিদ্র মানুষ আদিবাসিদের তুলনায় বেশী সুবিধা পেয়ে থাকে। ১৯৯৯ সালে বিলিবিয়ায় কচিবাম্বা নিলামে তাদের পানি সরবরাহের বিষয়াদি ডাকে তোলে। তারা চাইছিলো তাদের সেবাকে আরো বাড়াতে। সেখানকার পানি সরবরাহের ব্যবস্থাটি কিনে নেয়- আগাস দেল কুনারী, ইহা বিচালের একটি প্রতিস্টান। ইহা অ্যামেরিকান একটি বড় কম্পানী। এই কোম্পানি ১৫ % থেকে ১৭% পর্যন্ত লাভ করে আগাছ ডেল টুনারি কোম্পানি পানির দাম ৩০০% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। বিগত দুই মাস যাবত এই সলক বিষয় নিয়ে বিক্ষোভ ও হয়েছে। বিক্ষুভ কারী অভিযোগ করেছেন যে এখন সেখানে বৃস্টির পানি ও লিজে দেয়া হয়েছে। সে বিক্ষুভের সময় পুলিশ ও মিলিটারীদের সাথে ও তাদের সংঘর্ষ হয়েছে। একটি ১৭ বছরের ছেলে মারা গেছে এবং প্রায় কয়েক শত বিক্ষুভ কারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাংবাদিক লুইস ব্রেদু এই পরিস্থিতির বর্ননা করতে গিয়ে বলেছেনঃ

“প্রতিটি মানুষ প্রতিবাদ করেছে, প্রত্যেকে…. আমি বিলিবিয়ায় কখনও এরূপ দেখিনাই। গৃহ বধুরাও পুলিশকে ঢিল ছুড়তে দেখেছি । এটা ছিলো সত্যকার অর্থেই একটি বিদ্রোহ”।

পানি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব জাতীয় স্বার্থের সাথে জড়িত একটি বিষয়। পানি নিয়ে এই বিক্ষুভ বলিবিয়ার সরকারকে অচল করে দিয়েছিল। পানি সম্পদের উপর থেকে সরকার নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিলো। পানিকে পন্যে পরিণত করার কারনে সাধারণ জনগণের মধ্যে এক মহা বপর্যয়ের সৃষ্টি করে।

বন্দ্বনা শীবার মতে,

বাজার অর্থনীতির পক্ষের লোকেরা মনে করেন পানি একটি অসিম বস্তু আর দুষন বিষয়টি একটি কল্পনা মাত্রতারা আরও মনে করেন যে যদি কোথাও পানির সংকট হয় তবে টাকা খরচ করে অবকাঠামো নির্মান করে তাঁর সমাধান করা যাবেপানি নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে ভাববার কিছু নেই”।

পক্ষান্তরে, বহুজাতিক কোম্পানি গুলো যারা তৃণমূলে বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলার কাজে নিয়জিত তারা মনে করেন – পানি সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক ও পরিবেশগত সিদ্বান্ত দরকার। কোন এলাকায় উন্নত প্রযুক্তির কল খানা গড়ে তুলার আগে পরিবেশ গত দিক টি দেখা দরকার। পরিবেশ রক্ষার আইন অনু্যায়ী ব্যবস্থা থাকার দরকার। মোট একটি পরিবেশ সম্মত শিল্প গড়ে তুলতে হবে। যাতে থাকবে, সম্প্রীতি, প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা, জ্ঞান চর্চা, সকলের অংশ গ্রহন, সকলের সূ রক্ষা ও নিরাপত্তা এবং ক্ষতি পুরনের সূ ব্যবস্থাএসব কিছু গড়ে তুলতে হলে গণতান্ত্রিক পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলা দরকার। সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাজার কখনও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে না ।

অধিকন্তু,

“বাজার ব্যবস্থায় পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংক্রান্ত বিষয় গুলোকে মানুষের আর্থিক সঙ্গতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে। পানির অতিব্যবহার পানিচক্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যহত করতে পারে। আর যদি সেই অবস্থার সৃষ্টি হয় তবে অন্য কোন পন্য দিয়ে তাঁর স্থান পুরন করা যাবে না। এই ধনের চিন্তা ভাবনা সকল কিছু কেই পন্যে রূপান্তরের একটি প্রবনতা থেকে সৃষ্টি হয়”।

পানির সমস্যার সমাধানের জন্য নীতিগত সিধান্ত নিতে হবে। সূত্র মতে, পৃথিবীর ৯৭.৫% পানি হলো লবন্তাক্ত। আর বাকী পানির মধ্যে মাত্র ১% পানি নিরাপদ হিসাবে মানুষের জন্য ব্যবহার উপযোগী।

“এমন কি এই ক্ষুদ্র অংশটি ও দুনিয়ার মানুষের জন্য যতেস্ট যদি তা বুদ্বিমত্তার সাথে সটিক ভাবে ব্যবহার করা হয়”।

কিন্তু সমস্যা হলো পুঁজিবাদী চিন্তা ভাবনা । তারা শ্রম ও পানি সহ সকল কিছুকেই পন্যে পরিণত করতে চায়। বর্তমান পরিস্থিতে পানির সামগ্রীক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন বিশ্ব ব্যবস্থার একটি আমূল পরিবর্তন। সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তন না করে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার আওতায় পানির

সঙ্কট দূর হবে না । কেননা পুঁজিবাদ পন্যের উপর মুনাফা অর্জনের জন্য মূল্য নির্ধারন করে দেয়। যাতে তাঁর উপর সাধারনের নিয়ন্ত্রন না থাকে। প্রচলিত সমস্যার সমাধানের জন্য যে প্রয়াস চলছে তা দির্ঘ মেয়াদী হবে না। তা হচ্ছে ও না । নানা জায়গায় পানির সমস্যা নিয়ে বিরোধ লেগেই আছে। এমন কি যুদ্ব পর্যন্ত লেগে আছে বা তাঁর উপক্রম হয়ে আছে।

কোথাও কোথাও পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পানি সমস্যার সমাধান হলে ও তা স্থায়ী নয়। কেননা পানি সঙ্কট ঠিকিয়ে রাখাই পুঁজিবাদের ধর্ম। পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদ ব্যবস্থাটাই হলো মুনাফা কেন্দ্রীক একটি চক্র। তারা মানুষের সত্যিকার ভালো চাইতেই পারে না । তারা দির্ঘ মেয়াদী মুনাফা লাভের জন্য “বৃস্টিকে ও লিজ দেবার” এবং পানির সঙ্কট তৈরী করে অধিক মুনাফা অর্জনের তালে আছে। তাঁর জন্য দরকার হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির অপ বিজ্ঞান তারা প্রয়োগ করছে। প্রথম বিশ্বের চিন্তাবিদগন পানির সমস্যার সমাধানের জন্য ভাবছেন না। তারা বরং এটা দিয়ে সংকট তৈরী করে ফায়দা হাসিল করতে চাইছে। উদাহরন হিসাবে আমরা বলিভিয়ার কথা বলতে পারি। তবে, পানি সমস্যার একটি সমাধান হতেই হবে। আর তা হবে স্থায়ী ও বিশ্বব্যাপী। তাঁর ফল ভোগ করবেন সকলেই। তাঁর জন্য দরকার বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন – গনতন্ত্রায়ন। দুনিয়া জোড়ে নতুন সমাজ বিনর্মানের উদ্যোগ। একটি প্রগ্রসর চিন্তার বিকাশ। আলোকিত সাম্যবাদ। এমন কোন সমস্যা নেই যা আমরা সমাধান করতে পারব না। সমাধানের পথ হলো বিপ্লবী বিজ্ঞানের যথাযত প্রয়োগ করা। জনতার বিজয় আসবেই। শোষকের বিনাশ অনিবার্য।#শিহাব

Leave a Reply